মুনজেরিন শহীদের সাম্প্রতিক একটা শিফটিং খেয়াল করেছেন?
আমরা তাকে কী হিশেবে চিনি? তিনি ইংলিশ পড়ান। 'ঘরে বসে স্পোকেন ইংলিশ' এই কনসেপ্ট বাংলাদেশে জনপ্রিয় করেন।
তার IELTS কোর্স আর স্পোকেন ইংলিশ কোর্স মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার পেইড রেজিস্ট্রেশন আছে।
আমরা এতোদিন তাকে চিনতাম একজন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার হিশেবে। কোন বয়সীদের জন্য? অন্তত ১৫+। যারা SSC পরীক্ষা দিয়েছে, ভার্সিটিতে পড়ছে, গৃহিণী, সেলসম্যান।
সাইফুর'স এর পর বাংলাদেশে ইংলিশ মার্কেটে সবচেয়ে সফল বলা যায় মুনজেরিন শহীদকে।
একদিন তার একটি ভিডিও আসে। আমি বেশ অবাক!
তিনি নেচে-গেয়ে ইংলিশ শেখাচ্ছেন।
কাদেরকে?
বাচ্চাদেরকে।
অর্থাৎ, যেটাকে বলা যায় Kids English এর জন্য।
এমনিতেই তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইংলিশ শিক্ষক। এখন তিনি শেখাচ্ছেন বাচ্চাদেরকে। সেজন্য তিনি আগের যে টোনে কন্টেন্ট তৈরি করতেন, সেই টোনে না করে বাচ্চারা যেভাবে উপভোগ করবে সেভাবে নেচে-গেয়ে কন্টেন্ট তৈরি করছেন।
যিনি ছিলেন বড়দের শিক্ষক, তিনি এখন বাচ্চাদের শিক্ষক।
মনে হতে পারে একই কাজ, কিন্তু না। এটা একেবারে ভিন্ন। তিনি নিজের ব্র্যান্ডিং বদলেছেন। যেটাকে বলা হয়- Brand Repositioning।
প্রশ্ন করতে পারেন, এতে কী এমন হলো? আগে বড়দের পড়াতেন, এখন বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন?
গেইমটা এখানে।
বাংলাদেশে IELTS মার্কেট ভালনারেবল। বিদেশের ভিসা, স্কলারশিপ অনেককিছুর ওপর এটা নির্ভরশীল। স্পোকেন ইংলিশটাও এমন। এটার নরমাল ডিমান্ড মোটামুটি থাকলেও ডিমান্ড ক্রিয়েট করতে হয়। বারবার push করতে হয়।
কিন্তু, Kids English আর Junior English?
একবার এটার ডিমান্ড তৈরি করতে পারলে এটা evergreen product হয়ে যায়।
প্রত্যেক মা-বাবা নিজের পেছনে যা ব্যয় করতে দশবার ভাবে, সন্তানের পেছনে ব্যয় করতে এতো ভাবে না। সে নিজের অপূর্ণতা সন্তানের মাধ্যমে পূরণ করতে চায়।
তার ছেলে/মেয়ের ক্লাসফ্রেন্ড ইংলিশে ভালো। মা-বাবা চাইবে তার সন্তান যেন ঐ ছেলে/মেয়ের চাইতে ভালো হয়। সে কোথায় পড়ে ভালো হয়েছে? আমার ছেলে/মেয়েকেও সেখানে ভর্তি করবো।
এই ধরনের কম্পিটিশন বড়দের মধ্যে এতোটা নেই।
যার ফলে, আপনি যদি স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হতে পারেন, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস এইট, তাহলে আপনার কোর্সের ওয়ার্ড অব মাউথ মার্কেটিং অন্য লেভেলের হবে!
ভার্সিটিতে আমরা সবাই বেশ বিচ্ছিন্ন থাকি। ফ্রেন্ডের মধ্যে কেউ কোনো স্কিল রপ্ত করলে খুব একটা আগ্রহ নিয়ে কেউ সেটা শিখতে চায় না, সবার নানান ব্যস্ততা থাকে।
কিন্তু, স্কুলের একটা ছেলে ইংলিশে খুবই ভালো। তার ফ্রেন্ডরা তাকে ফলো করতে চাইবে, তারচেয়েও বড় আন্টিরা জিজ্ঞেস করবে— কীভাবে শিখলে? যাতে নিজের সন্তানকেও ঐ ছেলের মতো এক্সপার্ট করতে পারেন।
কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড এ ইংরেজিতে সুপিরিয়র হতে চাইলে পড়তে পারেন ফ্রিল্যান্স ইংলিশ।
মুনজেরিন শহীদের Brand Repositioning যদি এভাবেও দেখি, বলতে হয় তিনি একটি winning switch করেছেন।
কিন্তু, এটা যে স্রেফ হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত ছিলো না, সেটা আরো ভালোভাবে বুঝা যায় আয়মান সাদিকের ৫ মাস আগের একটি Podcast থেকে।
তিনি ডাটা'র আলোকে কথা বলেন।
তিনি বলেন, IELTS মার্কেটের চেয়েও বড় মার্কেট হলো Junior English & Kids English।
সাম্প্রতিক দেখতে পান, এই দুই সেগমেন্ট IELTS মার্কেটকে বিট করছে। তারা প্ল্যান করছেন নতুন মার্কেটে নিজেকে relevant করতে, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে।
পডকাস্টটি দেখার পর অপেক্ষায় ছিলাম, কীভাবে তারা এই মুভ করবেন।
সেটা যে মুনজেরিন শহীদ, অর্থাৎ তার স্ত্রীকে দিয়েই হবে, এটা বুঝতে পারিনি বলে তার এই নতুন ভূমিকায় অবাক হয়েছিলাম।
প্রথমত এই মার্কেট এভারগ্রিন। শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীর মা-বাবা সবাই এই মার্কেটে বেশ সচেতন। শিক্ষার্থীর হাতে সময়ও আছে, যেটা ইউনিভার্সিটিতে ওঠার পর থাকে না।
তারওপর মার্কেট সাইজ অনেক বড়।
যেকোনো স্কুলের একটা ক্লাসের যদি ৫ জন নিজেদের দৃশ্যমান পরিবর্তন করেন, সেটা দেখে বাকিরাও অনুপ্রাণিত হবে।
তারওপর বাংলাদেশের বেশিরভাগ সচেতন অভিভাবক যারা অনলাইনে এক্টিভ, তারা মুনজেরিনকে চিনেন।
তারা কেনো চাইবেন না তাদের সন্তান মুনজেরিন শহীদের কাছে ইংরেজি শিখুক?
অর্থাৎ, মুনজেরিন শহীদের আগের যে ব্র্যান্ডিং ছিলো, সেটা এক্ষেত্রেও বেশ কাজে আসছে।
Brand Repositioning এর অনেক pros and cons আছে। তারমধ্যে একটা হলো— মুনজেরিন শহীদের ১৫+ অডিয়েন্স দিনদিন কমতে থাকবে। কারণ, তারা এমন একজনের কাছ থেকে শিখতে চাইবে না, যিনি বাচ্চাদের পড়ান।
কিন্তু, মুনজেরিন শহীদ এমন এক মার্কেটে নিজের নতুন ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করতে যাচ্ছেন, যেই মার্কেটে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তিনি হয়ে উঠবেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
এক নতুন আইডেন্টিটি নিয়ে মুনজেরিন শহীদ নিজেকে পরিচিত করাচ্ছেন, যেটা বিজনেসের দিক থেকেও এক্সট্রিমলি winning move।
বাংলাদেশের এডুটেক মার্কেটে এই শিফটিং অনেকের জন্য লার্নিং।
জাস্ট, চোখকান খোলা রাখুন, দেখুন এটা তো একটা হচ্ছে, মার্কেট শিফট কতোভাবে হচ্ছে।